ফেরাউনের মূল নাম ও তার ইতিহাস কোরআন ও হাদিসের আলোকে নিম্নে পেশ করা হলো।
ফেরাউনের পরিচয়।
ال فرعون দ্বারা উদ্দেশ্য ভূমধ্যসাগরের দক্ষিণ ত্রিরাঞ্চলের আমালিকা সম্প্রদায় হতে যেসব লোক মিশরের বাদশা হতো তাদের উপাধি ছিল ফেরাউন।
যেমন পারস্যের রাজা-বাদশাদের উপাধি ছিল কিসরা এবং রোমান সম্রাটদের উপাধি ছিল কায়সার সুতরাং ( ال فرعون ) ফেরাউনের বংশধর বলতে উক্ত মিশরীয় বাদশাহদের বংশধরকে বোঝায়। যারা প্রায় পাঁচ হাজার বছর পূর্বে মিশরকে শাসন করতো। তারা ছিল অত্যন্ত পরাক্রমশালী এবং আল্লাহর একত্ববাদের সম্পূর্ণ বিরোধী ও ধর্ম বিরোধী। তাদের কেউ কেউ নিজেকে খোদা বলে দাবি করেছিল।
যেমন হযরত মূসা (আঃ) এর যুগের যে ফেরাউন ছিল তার নাম ছিল ( وليدبن مسيب بن ريان ) ওয়ালিদ ইবনে মুসাইয়াদ ইবনে রাইয়ান সে চারশত বছর রাজত্ব করেছিল এবং নিজেকে ناربمكم الاعلى অর্থাৎ আমিই বড় প্রভূ বলে দাবি করেছিল।
ফেরাউনদের উন্নত শিল্প কর্মের নিদর্শন।
উক্ত ফেরাউন বংশীয়রা কারিগরি ও শিল্পকর্মে অত্যন্ত পারদর্শী ছিল। তাদের উন্নত শিল্প কর্মের নিদর্শন হলো ফেরাউনদের জন্য নির্মিত সুউচ্চ পিরামিড তথা স্বর্গীয় কবর সমূহ। যা আজও কারো শহরের নিকট বিদ্যমান রয়েছে।
ফেরাউনদের ইতিহাস।
হযরত মূসা (আঃ) এর যুগে ফেরাউন বংশীয়দের শক্তি ও যশ দুর্বল হয়ে পড়েছে। যেমনিভাবে ফেরাউন তার দলবল এবং সৈন্য সামন্ত নিয়ে সাগরে নিমজ্জিত হয়ে ধ্বংস হয়ে যায়।
অতঃপর তারা ফিলিস্তিন থেকে আগত সম্রাটদের অধীন হয়ে যায় এবং তাদের দ্বারা শাসিত হয়। যেমন সোলায়মান (আ:)এবং পরবর্তী যুগে খ্রিস্টানদের দ্বারা এবং রোমানিয়াদের দ্বারা শাসিত হয়।
ইসলামের আগমনের পূর্বকাল পর্যন্ত তারা রোমানীয় সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ছিল। ইসলামের আগমনের পর হযরত ওমর (রা:) এর যুগে
তা মুসলিম সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়।

0 Comments