ইসলামের পূর্বে হযরত আবু হুরায়রা (রা:) নাম কি ছিল এবং তিনি কবে ইসলাম গ্রহণ করেন, এবং কবে মৃত্যুবরণ করেন, কোথায় সমাহিত হন, তা নিম্নে আলোচনা করা হলো।
আবু হুরায়রা নামের ব্যাখ্যা।
(ابو )আবু শব্দটি اسماء ستة مكبرة এর একটি। এর অর্থ পিতা রূপক অর্থে صاحب তথা মালিক অতএব আবু হুরায়রা
( ابو هريرة)এর অর্থ صاحب هريرة তথা হুরায়রার মালিক বা পিতা এখানে (هريرة) হুরাইরা শব্দটি هرة এর تصغير যার অর্থ বিড়াল ছানা বা ছোট বিড়াল।
সুতরাং আবু হুরায়রা অথবা বিড়াল ছানার মালিক তিনি একটি বিড়াল ছানা পালতেন বিদায় তাকে নবী (সা:) সোহাগ করে এই নামে ডাকতেন। অতএব ইহা তার কুনিয়াত বা উপনাম ।
তার প্রকৃত নাম সম্পর্কে বহুবিধ বর্ণনা রয়েছে তার মধ্যে প্রসিদ্ধ মত নিম্নে বর্ণনা করা হলো।
ইসলামের পূর্ব যুগে তার নাম।
প্রাক ইসলামী যুগে তার নাম ছিল আবদে সামস্ বা আবদে আমর। পিতার নাম আমর অথবা সাখর। ইসলাম গ্রহণের পর তার নাম হয় আব্দুল্লাহ বা আব্দুর রহমান।
ইসলাম গ্রহণের সময়কাল।
হযরত আবু হুরায়রা বনি দাউস গোত্রের লোক। সপ্তম হিজরী সালে খাইবার যুদ্ধকালে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন, এমনকি নবী কারীম ( সাঃ ) তাকে গনিমতের অংশ ও দান করেছেন বলে বর্ণনা রয়েছে।
হযরত আবু হুরায়রা (রা:) এর ফকীহ হওয়ার ব্যাপারে মতভেদ।
প্রখ্যাত সাহাবী হযরত আবু হুরায়রা (রা:) সবচেয়ে অধিক হাদীস বর্ণনাকারী ছিলেন। মহানবী (সা:) এর সুহবাত ও দোয়ার বরকতে তার স্মৃতিশক্তি ছিল অসাধারণ।
তবে তিনি ফকীহ ছিলেন কিনা এই সম্পর্কে আলেমদের তিনটি অভিমত পাওয়া যায়।
১। ফকীহ ছিলেন না ।
২। তিনি ফকীহ ছিলেন।
৩। ফিকহ সর্ববিধ যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা তার কাছে ছিল তবে তিনি ফকীহ হিসেবে প্রসিদ্ধ নন ।
শেষ কথা
সাহাবায়ে কেরাম ইসলামের প্রাথমিক যুগে হওয়ার দরুণ এক একজন এক এক কাজে মনোনিবেশ করেন।
হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ ) ফিকহের প্রতি মনোনিবেশ না করে হাদীস সংরক্ষণ ও বর্ণনার প্রতি মনোযোগ দেন। তাই ইসলামের ফিকহের মধ্যে তার প্রসিদ্ধি নেই ।
ইন্তেকালের সময়কাল।
হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) ৫৭ অথবা ৫৮ মতান্তরে ৫৯ হিজরী সালে ৭৮ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন।
সমাধি।
ذى طوى নামক স্থানে হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুর সমাধি অবস্থিত।

0 Comments