শিশুদের প্রহার করার পরিবর্তে আদর-সোহাগ করা আবশ্যকঃ
এক নজরে শিশুদের শিশুদের শিক্ষাদান পদ্ধতি :
০১. শিশুদের সর্ব প্রথম যে শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে তাহলো আল-কুরআনের শিক্ষা। কেননা কুরআনের শিক্ষা ব্যতীত কেউ প্রকৃত শিক্ষিত হওয়ার দাবী করতে পারেনা
০২. যেহেতু শিশুদের মন-মানসিকতা ও রুচি ভিন্ন, সেহেতু তাদেরকে ভিন্ন আঙ্গিকে, তাদের রুচিসম্মত অভিন্ন পদ্ধতিতে শিক্ষা দিতে হবে।
০৩. শিশুদের শর‘য়ী কারণ ব্যতীত অহেতুক প্রহার করা যাবে না।
০৪. শিশুদের মন-মানসিকতায় প্রচন্ড আঘাত ও ক্ষত সৃষ্টি করে এমন ধমক দেওয়া যাবেনা।
০৫. আদর-সোহাগ, স্নেহ-মমতা ও ভালবাসা, মাতৃ ও পিতৃত্ব সূলভ যত্নসহকারে লালন-পালনের মত করে শিক্ষাদান করতে হবে।
০৬. হতাশ ও নৈরাশ নিরাশ করার পরিবর্তে আশা-আকাঙ্খা ও মনোবল দৃঢ়-মজবুত হয় এমন কথা-কাজ ও বাণী শিক্ষা দিতে হবে।
০৭. শিশুদের মন কাদা ও উর্ভর মাটির ন্যায়। তাই তাদের কচি-কোমল হৃদয়ে তাওহীদ (আল্লাহর একত্ববাদ), ইসলামের সুমহান আচরণবিধি, চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য, লেন-দেন পদ্ধতি, সামাজিক ও ধর্মীয় নীতিমালা সুন্দর সহজ ও সাবলিলভাবে উপস্থাপনের মাধ্যমে বীজ বপন করতে হবে।
০৮. জৈনক ইসলামিক চিন্তাবিদ বলেন :
ক. শিক্ষাদাও শিশুদের কেননা তাদের হৃদয় কাদা ও উর্ভর মাটির ন্যায় সবকিছু গ্রহণের উপযোগি।
খ. সহযোগি বানাও বা সহযোগিতা নাও যুবকদের কেননা তারা সর্বকাজে বাকপটু ও কাজেরকর্তাও বটে।
গ. তাল মিলাও বা পার্শ্ব এড়িয়ে চল বৃদ্ধদের কেননা তারা তোমার কথা সহজে মেনে নিবেনা। [সূরা ফুরক্বান : ৬৪]।
০৯. শাইখুল আসার আল্লাম নাসিরদ্দীন আলবানী (রাহি.) বলেন :
শিশুদের প্রহার করা অবৈধ, তাদের আদর করা আবশ্যক। [ফাতাওয়া জাদ্দাহ ২৬]।
১০. শিশুদের সালাত শিক্ষাদানের গুরুত্ব, মৃদু প্রহার ও বিছানা পৃথকের ব্যাপারে গুরুত্ব :
عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : مُرُوْا أَوْلاَدَكُمْ بِالصَّلاَةِ وَهُمْ أَبْنَاءُ سَبْعِ سِنِيْنَ وَاضْرِبُوهُمْ عَلَيْهَا وَهُمْ أَبْنَاءُ عَشْرِ سِنِيْنَ وَفَرِّقُوْا بَيْنَهُمْ فِي الْمَضَاجِعِ
‘আমর ইবনু শু‘আইব (রহঃ) থেকে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও তার দাদার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের সন্তানদের বয়স সাত বছর হলে তাদেরকে সলাতের জন্য নির্দেশ দাও। যখন তাদের বয়স দশ বছর হয়ে যাবে তখন (সলাত আদায় না করলে) এজন্য তাদেরকে মারবে এবং তাদের ঘুমের বিছানা আলাদা করে দিবে। [হাসান সহীহ ; আলবানী। সুনান আবু দাউদ (তাহক্বীক্ব) ৪৯৫, আহমাদ ৬৭৫৬, হাকিম (১/১৯৭), বায়হাক্বী (৩/৮৪), রিয়াদুস স্বলেহীন ৩০১]।
১১. করণীয়ঃ
সুতরাং শিশুরা আমাদের উপর বা প্রতি মহামহিম আল্লাহর পক্ষ থেকে আমানত। এ আমানতের যথাযথ সংরক্ষণ, সদ্ব্যবহার, প্রকৃত করণীয় সম্পর্কে আমাদের সজাগ দৃষ্টি রেখে সম্মুখপানে অগ্রসর হতে হবে। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা আমাদের সকলকে সেই তাওফীক দান করুন, আমীন।
লেকক, আব্দুস সালাম হুসাইন আলী
শিক্ষক, ইনসাইট ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, উত্তরা, ঢাকা।
0 Comments