আদম ( আঃ) হাওয়া (আঃ)কে জান্নাত থেকে বের করে আল্লাহ তায়ালা দুনিয়াতে কোথায় রেখেছিলেন তা নিম্নে আলোচনা করা হল।
আদম ( আঃ)ও ইবলিশের কাহিনী।
আল্লাহ তাআলা আদম( আঃ)কে সৃষ্টি করার পরে সমস্ত ফেরেশতাদেরকে আদম (আঃ)এর সম্মানে সেজদা করার জন্য বললেন । সকল ফেরেশতা সিজদা করল। কিন্তু ইবলিশ শয়তান সিজদা করল না । আল্লাহ তাআলা তাকে প্রশ্ন করল তুই কেন আদমকে সিজদা করলি না।
ইবলিশ শয়তান এর বক্তব্য।
তখন ইবলিশ শয়তান বলল যে আমি আগুনের তৈরী। আর আদম হলো মাটির তৈরি। মাটি উপরের দিকে দিলে নিচের দিকে আস । আগুন নিচের দিকে জ্বালালে উপরের দিকে যায়। তাই নিম্নমানের জিনিসকে উচ্চ মানের জিনিস সিজদা করতে পারে না। এই অহংকার এর কারণে ইবলিশ শয়তান আদম (আঃ) কে সিজদা করলো না তখন আল্লাহ তায়ালা তাকে জান্নাত থেকে বের করে দিলেন এবং বললেন কিয়ামত পর্যন্ত তোর উপরে আমার অভিশাপ।
তার পরে আল্লাহ তাআলা আদম (আঃ) ও হাওয়া (আঃ) কে বললেন তোমরা জান্নাতে বসবাস করো যেথায় ইচ্ছা যাও যা ইচ্ছা খাওয়াও এবং পান করো কিন্তু ওই বৃক্ষের নিচে যেও না তাহলে তোমরা জালেমদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে।
ইবলিশের কুমন্ত্রণা।
আদম আলাইহিস সালাতু সালাম ও হাওয়া আলাইহিস সালাতু সালামের সুখে-শান্তিতে জান্নাতে বসবাস করা দেখে ইবলিশের হিংসা হল তখন সে চিন্তা করলে কিভাবে আদম ও হাওয়াকে জান্নাত থেকে বের করা যায় তখন ইবলিশ জানাতে গিয়ে তাদেরকে কুমন্ত্রণা দিতে থাকলেন যে তোমরা যদি ওই বৃক্ষের ফল খাও তাহলে তোমরা চিরস্থায়ী জান্নাতি হবে কিন্তু আল্লাহ তাআলা তো চায়না যে তোমরা চিরস্থায়ী জান্নাতে থাকো এই কুমন্ত্রণা দিয়ে সে গন্ধম ফল খাওয়ালো।
জান্নাতি পোশাকের অবস্থা।
যখনই আদম (আঃ)ও হাওয়া (আঃ)গন্ধম ফল খেলো তারপরেই তাদের শরীর থেকে জান্নাতি পোশাক খুলে পড়তে লাগলো। এবং একে অপরের লজ্জাস্থান তখন তারা দেখতে পেলো। এর আগ পর্যন্ত তারা কেউ একে অপরের লজ্জাস্থান দেখতে পাইনি। তারপরে তারা গাছের পাতা দিয়ে তাদের লজ্জাস্থানকে আবৃত করতে লাগলো।
পৃথিবীতে প্রেরণ।
তারপরে আল্লাহ তাআলা আদম (আঃ) ও হাওয়া (আঃ)কে আল্লাহ তাআলা বললেন তোমরা আর জান্নাতে থাকতে পারবেনা তোমরা দুনিয়াতে চলে যাও। এবং নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত তোমাদের দুনিয়াতে থাকতে হবে।
আদম (আঃ) কে শ্রীলঙ্কায় এবং হাওয়া (আঃ)কে সৌদি আরবের বর্তমান জেদ্দায় আল্লাহ তাআলা ফেরেশতাদের মাধ্যমে পাঠিয়ে দিলেন।

0 Comments